জন্মের পর আমি নাকি কাঁদি নাই যতদূর শুনেছিলাম। আমার পিঠে ঠাস ঠাস করে পাঁচ থেকে সাত বার চড় মারার পর নাকি আমি চিৎকার দিয়েছিলাম। সে চিৎকারটাও ছিল ভীষণ ক্ষীয়মান। আজ পর্যন্ত যতবার আমি চিৎকার দিতে গিয়েছি ততবারই মনে হয়েছে আমার গলার মধ্যবর্তী স্থানে কোন এক অযাচিত ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করছে। আনমনে নিজেকে শান্ত রেখে গলায় হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি ব্যাঙটা কোথায়? ঠিক তখনই কলিং বেল এর চাপে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। একটু বোঝার পর থেকে জগত সংসারে যখন নিজের উপস্থিতি অনুভব করি তখনও মাঝে মধ্যে নিজেকে আবিস্কার করার জন্য চিৎকার দেবার চেষ্টা করি। সে চিৎকার ও হয়ে যায় ক্ষীয়মান। ব্যাঙ রাজত্ব কায়েম করছে লাল ঝান্ডা উঠিয়ে। এবার ইচ্ছে করে হতে বদ্ধ পাগল। পাগল হতে চিৎকারের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তবে যে শিঁকলে বেধে উন্মাদ বলে পরিচয় দিবে। মাঠে, ঘাঠে প্রান্তরে এঁদো কাঁদা জলে চষে বেড়ানোর এক তৃষ্ণা। অনেক দিন ধরে আমরা একটা নিয়মে বাঁধা পড়ে আছি, এবার চুপিসারে নিয়ম টা ভাঙি চলো …

ওহ্ এখানে আমার ক্ষীয়মান চিৎকারের ও প্রয়োজন নাই বললেই চলে। হয়ে যাই মাতাল উন্মাদ,
মধ্যরাতে হেঁটে বেড়াবো শহর, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এমনিতে নানান উটকো পরিস্থিতিতে স্থীর উন্মাদ, এদের আলাদা করে খুব একটা উন্মাদ হওয়ার অভিনয় করার প্রয়োজন হয় না। চিৎকারটাও কেমন ফ্যাস ফ্যাস এ লোহার জং এর ন্যায়। তারচেয়ে বরং চলো রাতভর ঢিল ছুঁড়ে ছুঁড়ে ভাঙবো ল্যাম্পপোষ্ট ! বোন রুটি নিয়ে দৌড়, বট গাছের তলে হবে মিলনের চতুষ্কোণ। দু’পাগলে মিলে মাচাবো হল্লা, পালিয়ে পৃথিবীর নিয়মে তুমুল শোরগোল ; তখন আমাকে চিৎকার করতে হবে না . এ সুস্থ মানুষেরাই অসম্ভব সুস্থ বুদ্ধির কারবারিতে চিৎকার করবে বিকট শব্দে।
শুধু একটিবার বাড়িয়ে হাত,

পাগল, আমাকেও টেনে নিয়ে চল । আমি আজ আর চিৎকার করবো না , ব্যাঙটাকেও খুঁজবো না …
ওরা জানে লুকানোর প্রাণান্তকর লড়াইয়ের সমাপ্তি |||

ভোর :- ৫ঃ৩৩
১০/০৫/২০২০

আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন