(সপ্তদশ পর্ব )

দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় ‘পালোয়ান’ শিরোনামে আমার একটি ছড়া প্রকাশিত হয়। প্রকাশের তারিখ ছিলো ০৪ এপ্রিল ১৯৯৬ সন। এই ছড়াটি পরবর্তী সময়ে আমার ছড়ার বই ‘তিড়িং বিড়িং ভোঁদড় নাচে’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। ছড়াটি পাঠকের জন্য তুলে ধরছি।
ওই পাড়ার ওই কালু মিয়া
মস্ত পালোয়ান
মাসে  লাগে বিশ কেজি ঘি
দশটি পাকোয়ান।
বিরাট দেহী কালু মিয়ার
নেই কোনো ডর ভয়
ভাবেন তিনি মোহাম্মদ আলীও
সমকক্ষ নয়।
মস্ত জোড়া গোঁফে তাহার
পাঁকন ধরেছে
হাত পাকিয়ে তবু বলে
আছে কি কেউ আছে? ‘

‘দস্যু থেকে দেবী’ আমার একটি ছড়ার নাম। এই ছড়াটিও দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশের তারিখ ছিল
১৮ জুলাই ১৯৯৬ সন। এই ছড়াটিও পরবর্তী সময়ে আমার ছড়ার বই ‘তিড়িং বিড়িং ভোঁদড় নাচে’ -এর একটি ছড়া হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

‘ফুলন দেবী দস্যু রাণী
দস্যু এখন নয়
শান্তি এখন কাম্য তাহার
খুনখারাবী নয়।
ফুলন দেবীর জীবন এখন
নারী মুক্তির জন্যে
অনেকদিন লোকালয়ে
কী হবে অরণ্যে?
গণতন্ত্র এখন তাহার
প্রাণের স্লোগান
ফুলনজী এমপি এখন
তাহারই প্রমাণ। ‘

দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় আমার লেখা লেখির ব্যাপারে অনেক কথা বলেছি। ইতোপূর্বে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার কথা বলেছি। এবার দৈনিক আজকের কাগজের প্রকাশনা, প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে কিছু বলতে চাই।

দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকাটি ঢাকার সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি থেকে প্রকাশিত হতো। মালিক ও প্রকাশক কাজী শাহেদ আহমেদ সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা  ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করেন। এরপর ধীরে ধীরে কাজী শাহেদ আহমেদ দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। প্রকাশ হবার সাথে সাথেই পত্রিকাটির সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায় এবং বেশ সুনাম অর্জন করে।

কাজী শাহেদ আহমেদের সাথে আমার কোনো পরিচয় ছিলো না। একদিন আজকের কাগজ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি দেখলাম। ভাস্কর রাশার তৈরি বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য  আজকের কাগজ পত্রিকার কার্যালয় চত্বরে স্হাপিত হবে। ভাস্কর শিল্পী রাশাও এখানে উপস্হিত থাকবেন। চলে গেলাম। সাধারণ দর্শক হিসেবে উপস্থিত থেকে শিল্পী রাশাকে দেখলাম। আজকের কাগজের প্রকাশক, সম্পাদকসহ অন্যান্য সকলকে দুর থেকে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটিও দেখা হলো। আসরের নামাজের সময় বিরতি ছিল।

বিরতির সময় আজকের কাগজ অফিসে, এদিকসেদিক ঘুরাঘুরি করছি। দেখলাম, কাজী শাহেদ আহমেদ ক্রাচে ভর দিয়ে উপর তলার দিকে যাচ্ছেন। জিজ্ঞেস করে জানতে পারি যে উপর তলায় একটি নামাজের জায়গা আছে এবং কাজী সাহেব সেদিকেই যাচ্ছেন। আমিও তাঁকে অনুসরণ করে নামাজের জায়গায় পৌঁছে যাই। নামাজ শেষে কাজী শাহেদ আহমেদকে সালাম দেই এবং পরিচিত হবার চেষ্টা করি। কিন্তু, আলাপে তিনি ততটা আন্তরিক না হবার দরুন বেশি দুর এগুনো গেলো না। এছাড়া, আমিও এমন কেউ নই যে, আমার সাথে তার সদালাপ করা বাঞ্ছনীয়!

দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকাটি ছিলো তারণ্যের পত্রিকা, তরুণদের স্বপ্ন। সম্পাদক ও সংবাদ কর্মীরাও ছিল বয়সে তরুন। বের হবার সাথে সাথে এটিকে লুফে নেয় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। আমারও ভালো লেগেছিল আজকের কাগজের নতুন আঙ্গিকের পরিবেশনা এবং উপস্থাপনা। তাই আকৃষ্ট হই এবং পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক হয়ে যাই৷ একসময়ে ঐ ভালো লাগা থেকে দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় লেখা পাঠানো শুরু। লেখা পাঠাতাম ডাকযোগে। লেখা পাঠিয়ে পত্রিকার পাতা উল্টাতে থাকতাম ছাপার অক্ষরে লেখা দেখার জন্য।

দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকার কারও সাথেই আমার পরিচয় ছিলো না। পরে জানতে পারি সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান আর আমার গ্রামের বাড়ি একই জায়গায়, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্ধার উপজেলায়। আর কাজী শাহেদ আহমেদের বাড়ি যশোর।

একদিন প্রেসক্লাবে নাইমুল ইসলাম খানের সাথে দেখা। কথা হলো, পরিচয়ও হলো। বললাম, আমি সামাদ সিকদার। আজকের কাগজে মাঝেমধ্যে লিখি। তিনি লেখক হিসেবে আমাকে চিনতে পারলেন। তারপর অনেক কথা হয়।

প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে নাইমুল ইসলাম খান আমাকে  বললেন, আজকের কাগজ অফিসে যাচ্ছি। আপনি যাবেন? প্রস্তাবটা লুফে নিলাম। রাজি হয়ে গেলাম। হাতে কিছু লেখাও ছিলো। ভাবলাম,  এই ফাঁকে দিয়ে আসা যাবে। তার গাড়িতে করে যেতে যেতে অনেক বিষয়ে অনেক কথা হলো। তাকে অত্যন্ত প্রাণখোলা মানুষ বলেই মনে হলো। সম্পাদকের রুমে ঢুকে আমি তো অবাক! এতো কম বয়সে আজকের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক! কী সুন্দর গাড়ি, অফিস!

সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান চা- নাস্তাসহ আপ্যায়ন করলেন। তার কয়েকজন সহকর্মীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সহকর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক কী চমৎকার! কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই তার অফিস ঘুরিয়ে দেখালেন। তখন নাইমুল ইসলাম খানের বয়স ৩৭ বছর।

সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের জন্ম ২১ জানুয়ারি ১৯৫৮ । তিনি ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশী সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বাংলা ভাষার দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক। নাইমুল ইসলাম খান আধুনিক পদ্ধতিতে আজকের কাগজ পত্রিকাটি উপস্থাপনার  জন্যে বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছেন। নাইমুল ইসলাম খান দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে কথা বলেন (তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া)।
(চলবে)

রূপায়ণ টাউন, ভুঁইগড়, নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ।।

আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন