মিনহাজ সাহেব স্ত্রীর সাথে ইয়ার্কি করে ওনাদের ম্যারেজ এনিভার্সারি বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়ে প্রায় ফেঁসেই যাচ্ছিলেন । তিনি ফেসবুকে ঠিক কী লিখেছিলেন সেটি এখন বললে গল্পটাই শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং বিষয়াটি আপাততঃ তোলা থাকুক। ততক্ষনে আমরা মিনহাজ দম্পতির বিষয়ে কিছু তথ্য জেনে নেই। প্রত্যেক মানুষের একেকটি হবি বা শখ থাকে, যেমন গান শোনা, বাগান করা, খেলা দেখা, ছবি আঁকা ইত্যাদি। মিনহাজ সাহেবের রূপবতী স্ত্রী রুপা বেগমের শখ হচ্ছে বাইরের মানুষের কাছে স্বামী সম্পর্কে নেগেটিভ কথা বলে বেড়ানো। কোথাও কারো বাসায় বেড়াতে গেলে অথবা নিজ বাসায় মেহমান বেড়াতে এলে তিনি সুকৌশলে কথা বার্তার এক পর্যায়ে ঝুপ করে স্বামীর প্রসঙ্গে চলে যেয়ে যথারীতি নেগেটিভ ভাবে স্বামী বন্দনায় লিপ্ত হয়ে যান। যেমন, কেউ হয়তো বললো, ‘ভাবি আপনার শাড়িটিতো আপনাকে খুব মানিয়েছে!’ রুপা বেগম তখন হয়তো বলবেন, ‘আর বলেন না ভাই, ওনার রুচি বলে কোনো কথা আছে , গেলাম ওনার সাথে শাড়ি কিনতে, একটি টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি হাতে ধরিয়ে বললেন, দেখো দেখো কী সুন্দর শাড়ি , এটি নিয়ে নাও। সস্তা জিনিস গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা। আমাকে গরু পেয়েছে,? আপা আপনেই বলেন, পরে একাই একদিন নিউমার্কেটে যেয়ে আমি নিজে পছন্দ করে এটা কিনেছি’।

স্বামী সম্পর্কে এসব আলাপ আলোচনায় যদি কখনো মিনহাজ সাহেব উপস্থিত থাকেন তবে ভুলেও তিনি কখনো স্ত্রীর কোনো কথার বিন্দু মাত্র প্রতিবাদ করেন না। তাঁকে বোকা বোকা চেহারা করে হাসিহাসি মুখ করে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসময় মিনহাজ সাহেবকে দেখে বেশ মায়া হয়। একদিন পাশের বাসার এক ভদ্রলোকের বাসায় দাওয়াত খেতে যেয়ে প্রসঙ্গক্রমে কথা উঠলো এবারে সামারে কে কোথায় ছুটি কাটাবে। কেউ বললেন রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি রিসোর্টে যাবেন, কেউ বললেন বান্দরবনের নীলগিরি রিসোর্ট, কেউ বললেন কুয়াকাটা টুরিস্ট স্পট, কেউ বললেন কক্সবাজার যাবেন। কেউ একজন রুপা বেগমের দিকে ইঙ্গিত করতেই উনি যেন প্রস্তুতি নিয়েই ছিলেন। আগুনে ঘি ঢালার মতো করে উনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বললেন, ‘আমার ভাই সেই কপাল। আমার বিয়ে হয়েছে পন্ডিত অতীশ দীপঙ্করের সাথে । পন্ডিত সাহেব ক্লাসে কি লেকচার দিবেন সেসব স্টাডি করবেন, পরীক্ষার খাতা দেখবেন, বাইরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য একটি মন থাকতে হয় ভাই , আপনার ভাইয়ের সেই মন নেই । মিনহাজ সাহেব কাছে পিঠেই ছিলেন। উনি সেই ভুবনময়ী হাসি দিয়ে পরিস্থিতি ম্যানেজ করলেন।

রুপা বেগমের স্বামী অর্থাৎ মিনহাজ সাহেবের মধ্যে রোমান্টিকতার বালাই নেই। তিনি আসলে মানুষের সাথে মিশতে পারতেন না, সবসময় আড়ষ্ট হয়ে নিজেকে একটি খোলসের মধ্যে গুটিয়ে রাখতেন। সংসারে বেশি ভাইবোন থাকলে অনেক সময় বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরণের সোশ্যাল স্কিল ডেভেলপ করে। বেচারা মিনহাজ সাহেব ছিলেন বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। অতিরিক্ত আদরে ও প্রশ্রয়ে এবং বন্ধু বান্ধবের সাথে সেভাবে মেলামেশা না করায় কেমন যেন একটি মুখচোরা টাইপের হয়ে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। মিনহাজ সাহেব একটি সরকারি কলেজে কেমিস্ট্রি পড়ান। জগতের যাবতীয় মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মাঝে নানান রাসায়নিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অসম্ভব কৌতূহল থাকলেও স্ত্রীর রসায়ন সম্পর্কে মিনহাজ সাহেবের তেমন একটা কৌতূহল লক্ষ্য করা যায় না। অবশ্য শুধু স্ত্রীর রসায়ন বললে ভুল হবে, রাজনীতি, খেলাধুলা, ধর্ম তত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ে মিনহাজ সাহেবের তেমন একটি আগ্রহ নেই। যেন এ পৃথিবীর কারও কাছে থেকেই কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, দেওয়া -নেয়ার ব্যাপার নেই। শিক্ষকদের কমন রুমে অন্যান্য শিক্ষকরা যখন বলাবলি করেন, ‘দেখলেন ভাইজান রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ মেচে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ালো, ব্যাটারা তো একেবারে কুপোকাত, ৫০ ওভারের খেলা, সেখানে মাত্র ৩০ ওভার ব্যাট করে কুঁতে কাতে ১০০ রানও করতে পারলো না। আর আমাদের সোনার ছেলেরা ১৬ ওভারের শুরুতেই মাত্র এক উইকেট হারিয়ে কী অনায়াসে সেই রান টপকে ফেললো। এসব আলোচনার সময় মিনহাজ সাহেবকে দেখা যায় গভীর মনোযোগে রাদারফোর্ড ও বোর মডেলের তুলনা পড়ছেন অথবা ইলেক্ট্রনের বিন্যাসের ভিত্তিতে মৌলের শ্রেণীভাগের দিকে চোখ বুলাচ্ছেন।
সেই মিনহাজ সাহেবের মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা গেলো। নিজের বেশভুষায়, কথা বলার ভঙ্গিতে আধুনিকতার প্রভাব যেন দিন দিন বৃদ্ধি পেতে লাগলো। প্রতিদিন সেভ করেন, ইস্ত্রি করা প্যান্ট-শার্ট পড়েন, গায়ে সেন্ট মেখে কলেজে পড়াতে যান, এমনকি কলিগদের সাথে, স্ত্রীর সাথে ঠাট্টা মস্করা পর্যন্ত করেন। রুপা বেগম বেশ অবাক হলেন এবং ক্রমশঃ স্বামীর প্রতি ভাব -ভালোবাসার পরিমান বাড়িয়ে দিলেন। বাইরের লোকের কাছে স্বামীর নেগেটিভ বন্দনা কমিয়ে দিলেন । ছেলেমেয়েরাও তাদের বাবাকে আধুনিক হতে দেখে উচ্ছসিত হলো। কলেজে শিক্ষকদের রুমেও মিনহাজ সাহেবকে নিয়ে কানাঘুষা করতে দেখা গেল। সবাই মিনহাজ সাহেবের এই পরিবর্তনের পেছনে নতুন জয়েন করা zoology ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সাহেবকে সন্দেহ করলেন।

বয়সের ক্ষেত্রে রফিকুল ইসলাম মিনহাজ সাহেবের চেয়ে অন্তত সাত আট বছরের ছোট, একেবারে ছিপছিপে সুদর্শন তরুণ গোছের এবং অত্যন্ত মিশুক টাইপের। সেই রফিকুল ইসলামের সাথে মিনহাজ উদ্দিনের চট করে ভীষণ ধরণের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। কলেজে প্রায়ই দেখা যায় মিনহাজ সাহেবের সাথে রফিকুল ইসলামকে ফিসফিস করে কথা বলছেন, কলেজের ক্লাসের ফাঁকে দপ্তরি দিয়ে চা, কলিজা সিঙ্গারা আনিয়ে খাচ্ছেন। রফিকুল ইসলামের মধ্যে এক ধরণের সম্মোহনী শক্তি কাজ করতো। তিনি যখন কথা বলতেন শুধু মিনহাজ উদ্দিন না, টিচার্স কমন রুমের সবাই মন্ত্র মুগ্ধের মতো ওনার কথা শুনতেন। সেই রফিকুল ইসলামের সাথে স্বল্পভাষী মিনহাজ উদ্দিনের বন্ধত্বকে সবাই ভালো চোখেই দেখলেন।মিনহাজ উদ্দিনকে আধুনিকতার তালিম দিতে যেয়ে রফিকুল ইসলাম আরেক কান্ড করে বসলেন । তিনি মিনহাজ সাহেবের সাথে ফেসবুক নিয়ে আলাপ আলোচনা করে ওনাকে ফেসবুক বিষয়ে কৌতূহলী করে তুললেন এবং অতি উৎসাহী হয়ে ওনাকে একটি ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিলেন। ঠিক এখান থেকেই মিনহাজ সাহেবের আধুনিকতার প্রচেষ্টায় একটি নতুন মাত্রা সংযোজিত হলো।
ফেসবুক ব্যাপারটি মিনহাজ সাহেবের কাছে একেবারে নতুন না হলেও পছন্দ করতেন না বলে এটি থেকে তিনি দূরে থাকতেন । কিন্তু সহকর্মী রফিকুল ইসলাম যখন তাকে ফেসবুকের নানান পজিটিভ দিক বোঝালেন, হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে কত সহজেই ফেসবুকের মাধ্যমে ফিরিয়ে পাওয়া যায়, দুনিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের চোখের নিমিষে যোগাযোগ করা যায় ইত্যাদি ভালো ভাবে বুঝিয়ে বলতেই তিনি কৌতূহলী হয়ে ফেসবুকের একাউন্ট খুলতে রাজি হয়ে গেলেন।

বাচ্চারা কথা শেখার সময় নতুন কোনো শব্দ শেখার পরে, সেই একই শব্দ বার বার বলতে থাকে; আবার প্রথম হামাগুড়ি দেয়া শিখলে হামাগুড়ি দিয়ে সব জায়গায় যেতে চায়; নতুন হাঁটা শিখলে সামনে বড়োদের জুতা স্যান্ডেল যায়ই পায় সেটি পায়ে দিয়ে হাঁটতে থাকে। আমাদের মিনহাজ সাহেবও নতুন ফেসবুকের ব্যাবহার শেখার পরে পাঠ্য বইয়ের রসায়ন থেকে ধীরে ধীরে ফেসবুকের রসায়নের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করলেন । স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি জীবনের অনেক বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ হয়ে বেশ আনন্দিত হতে থাকলেন । এভাবে মিনহাজ সাহেব অতি দ্রুত ফেসবুকের মজার মধ্যে ডুবে গেলেন। তিনি প্রায় সময় কাজের ফাঁকে নিত্য নতুন ফেসবুকে পোষ্ট দেন, কলেজে যাওয়া আসার পথে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দেন এবং সেসব পোষ্ট দেখে কে কী কমেন্ট করলো অথবা লাইক করলো তা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন।
ঠিক এরকম সময়ে মিনহাজ সাহেব নিজের ম্যারেজ এনিভার্সারি নিয়ে পোষ্ট দিতে যেয়ে মহা বিপত্তির শিকার হলেন। তিনি মজা করে লিখেছিলেন, ‘একত্রিশ বছর একসাথে একই ছাদের নিচে বসবাস করে বিবাহিত জীবনকে কার্বনডাইঅক্সাইডের মতো মনে হচ্ছে, মনের জানালা খুলে অক্সিজেনের অপেক্ষায় আছি।’ মিনহাজ সাহেবের সেই পোষ্টে নানান মানুষ, বন্ধু-বান্ধব কমেন্ট বক্সে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। এক মহিলাকে দেখা গেলো এক হাতে কতগুলি হার্টের ছবি, লাল টকটকে গোলাপফুল এবং আরেক হাতে অক্সিজেনের সিলিন্ডার হাতে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছেন।

রুপা বেগম ছুটির দিনে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। ঘুম থেকে উঠে বিছানায় আলস্যে ঘুমু ঘুমু চোখে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুকে কিছুক্ষন বিচরণ করা রুপা বেগমের দৈনন্দিন জীবনের সকাল বেলার রুটিনের মতো কাজ পর্যায়ে পড়ে। আজ তিনি সেই রুটিন মোতাবেক ফেসবুকে যেয়ে স্বামীর পোষ্ট দেখে রেগে আগুন হয়ে উঠলেন। রুপা হুংকার দিয়ে স্বামীকে ডাকতেই মিনহাজ সাহেব ঘরে ঢুকে পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পেরে কাচুমাচু মুখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেন। ছুটির দিন বলে ছেলেমেয়েরাও স্কুলে যায়নি, বাসায় ছিল, ওরাও বাবা-মায়ের বেডরুমে এই সাত সকালে কি হয়েছে বলে ছুঁটে এলো। রুপা চিৎকার করে বললো, শরীরে অক্সিজেন কমে গেছে, তাই না ? দাড়াও তোমার বারোটা বাজাচ্ছি। এই বলে তিনি বাঘিনীর মতো স্বামীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দত হতেই চতুর মিনহাজ সাহেব তুরুপের তাস পকেট থেকে বের করলেন। বেলুনে সেফটিপিন ফুটিয়ে দিলে যেমন ফুস করে বাতাস বের হয়ে নেতিয়ে পরে, রুপা বেগমের সব রাগ, গর্জন সেভাবেই একেবারে চুপসে যেয়ে তিনি আনন্দে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন।পরিকল্পনাটির রূপকার সেই রফিকুল ইসলাম। ওনার বুদ্ধিতেই তিনি স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যে সপরিবারে সবার জন্যে মালয়েশিয়ায় বেড়াতে যাওয়ার প্লেনের টিকিট কিনে রেখেছিলেন। আর, ফেসবুকের সেই পোষ্টের আইডিয়াটা মিনহাজ উদ্দিন ইচ্ছা করেই মজা করার জন্যে করেছিলেন। স্ত্রীকে খানিকটা ক্ষেপিয়ে তারপরে আনন্দের সংবাদটি দিবেন, এরকমই তাঁর প্ল্যান ছিল ।

মিনহাজ উদ্দিন তার পরিবার নিয়ে কুয়ালালামপুরে সারাদিন কাটিয়ে পরের দিন অর্থাৎ ম্যারেজ এনিভার্সারির দিনে মালয়শীর মূল ভূখণ্ড থেকে আরো ৩০ কিমি উত্তর পশ্চিমে Langkawi নামক একটি দ্বীপের রিসোর্টে যেয়ে উঠলেন। পাহাড়, স্যান্ড বিচ আর প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি সেই দ্বীপে বোটে করে পানিতে ঘুরে বেড়ালেন, বটেই লাঞ্চ সেরে নিলেন। চমৎকার এক পরিবেশে মিনহাজ সাহেব সপরিবারে পালন করলেন তাদের একত্রিশতম ম্যারেজ এনিভার্সারি।
……..
পুনশ্চ:
১)ফেসবুক অবসরের সঙ্গী হলেও নেশার সামগ্রী না, এটি যেমন মনে রাখা প্রয়োজন ঠিক একইভাবে আমাদের মনে রাখতে হবে ফেসবুকের পোষ্ট, কমেন্ট এসব নিয়ে অনেক অনেক সম্পর্ক্য নষ্ট হয়ে যায়।

২) মানুষের বৈশিষ্টাবলীর অনেককিছুই জন্মসূত্রে যেমন একেক মানুষ একেকভাবে পেয়ে থাকে, তেমনি এটাও ঠিক এই বিষয়গুলি পরিবেশ, পরিস্থিতির অনেক অনেক ফ্যাক্টর দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত। গল্পের রফিকুল ইসলাম যেমন স্বল্পভাষী ইন্ট্রোভার্ট পার্সোনালিটির মিনহাজ সাহেবকে বদলিয়ে ফেলেছেন, সেরকম আমাদের সবার অন্তত একজন ভালো বন্ধু আমাদের ব্যাক্তিত্বের অনেক নেগেটিভ দিক পাল্টিয়ে ফেলে আমাদেরকে পরিবার, বন্ধুমহল, এবং কাজের যায়গায় আরও গ্রহণযোগ্য এবং আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বের দ্যুতি ছড়াতে সক্ষম। আমাদের অন্তত একজন হলেও চাটুকর না, একজন ভালো বন্ধু থাকা দরকার।

৩) ম্যারেজ এনিভার্সারি, জন্মদিন প্রভৃতি পরিবারের ছোটোখাটো যে কোনো উৎসব পালন যে শুধু ব্যয়বহুল ভাবেই করতে হবে এমন কথা নেই, অন্তরের অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে যে কোনো পরিস্থিতিতেই পরিবারের যে কোনো অনুষ্ঠান নিজেদের মতো করে পালন করে একঘেয়েমি কাটিয়ে সংসারকে আনন্দ ও উপভোগ্য করা সম্ভব।
—-
সমাপ্ত (এই গল্পটি পেন্সিল সংকলন ২০২৪ এ প্রকাশিত হয়েছিল)

পূর্ববর্তী নিবন্ধহালচাল :কানাডার তৃণমূল শিক্ষা ব্যবস্থা
পরবর্তী নিবন্ধহালচাল : জীবন দক্ষতায় ইউ টার্ন
জাকারিয়া মুহাম্মদ ময়ীন উদ্দিন
জাকারিয়া মুহাম্মদ ময়ীন উদ্দিন (জন্ম: ১৯৬৬ ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে উন্নয়ন কর্মী হয়ে দেশীয় ও আন্তজার্তিক অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী শুরু করেন এবং তখন থেকেই লেখালেখিতে মনোনিবেশ। তবে লেখালেখি শুরুটা ছিল সেই হাইস্কুল জীবনে পাড়ার বড় ভাইদের প্রকাশিত ম্যাগাজিন 'অবসর' নামক পত্রিকার মাধ্যমে। ২০০৩ সালে কানাডায় সপরিবারে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে, আবারও পড়াশুনা, প্রথম Humber College থেকে সোশ্যাল সার্ভিস বিষয়ে দুই বছরের ডিপ্লোমা, পরে University of Guelph থেকে ফ্যামিলি & কমিউনিটি সোশ্যাল সার্ভিস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে আবারও উন্নয়ন কর্মী হিসাবে রেজিস্টার্ড সোশ্যাল সার্ভিস ওয়ার্কার হিসাবে ২০১০ সাল থেকে অদ্যাবধি টরেন্ট ভিত্তিক বিভিন্ন অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর করছেন । লেখকের কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক গল্পপ্রবাসী ব্লগ, কানাডা ভিত্তিক একটি সাপ্তাহিক বাংলামেইল পত্রিকায় এবং মাসমিডিয়াতে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পরে ঢাকায় ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় লেখকের তিনটি বই হোমলেস, সিঙ্গেল মাদার, জোসনা ম্যানশন উপন্যাস আকারে প্রকাশিত হয় । বর্তমানে হাউজ হাজব্যান্ড নামে লেখকের আরেকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক কে উপন্যাস হিসাবে ২০২৪ সালের ঢাকা একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে । মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখকের একটি জনপ্রিয় গল্প 'শেকড়' ২০২১ সালে বাংলাদেশের বুকল্যান্ড প্রকাশনা থেকে ৫০ লেখকের ভাবনা নিয়ে পঞ্চাশে বাংলাদেশ গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছিল। গল্প/উপন্যাসের পাশাপাশি কবিতা, প্রবন্ধ লেখা ছাড়াও খেলাধুলা নিয়েও লেখকের অনেক লেখা রয়েছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন